ব্রণ কেন হয় এই প্রশ্ন অনেকেরই মনে। বয়ঃসন্ধিকালে ব্রণ হয়নি এমন মানুষ খুবই কম। কিন্তু পরিণত বয়সে ব্রণ কেন হয়? ব্রণ মানেই সারা মুখে গোটা, ব্যথা এবং শেষে দাগ। নানা কারণে এই সমস্যা দেখা দিতে পারে। কী সেই কারণ? জানার সঙ্গে জেনে নিন কীভাবে কমাবেন।
》ব্রণ কী?
ত্বকের সেবাসিয়াস গ্রন্থি থেকে সেবাম নামের একধরনের তৈলাক্ত পদার্থ নিঃসৃত হয়। এই গ্রন্থির নালির মুখ বন্ধ হয়ে গেলে সেবাম নিঃসরণ বাধাগ্রস্ত হয় এবং তা জমে ফুলে ওঠে, যা ব্রণ নামে পরিচিত। প্রায়ই ব্রণের চারপাশে প্রদাহ হয় এবং লাল হয়ে যায়। জীবাণুর সংক্রমণ হলে এতে পুঁজ হয়। সংক্রমণ সেরে গেলেও মুখে দাগ থেকে যেতে পারে।
》ব্রণ কেন হয়?
সুনির্দিষ্ট কারণ নিশ্চিত না হলেও হজমের সমস্যা, অ্যালকোহল, বয়ঃসন্ধিকালে হরমোনের প্রভাবে ব্রণ হয়। বংশগত কারণও অন্যতম। প্রোপাইনি ব্যাকটেরিয়াম একনিস নামের একধরনের জীবাণু এর জন্য দায়ী হতে পারে।
》ব্রণের প্রকারভেদ:
১. ট্রপিক্যাল একনি যা অতিরিক্ত গরম এবং আর্দ্রতায় পিঠে, ঊরুতে বেশি হয়ে থাকে।
২. প্রিমেন্সট্রুয়াল একনি যা নারীদের মাসিকের সপ্তাহখানেক আগে ওঠে।
৩. একনি কসমেটিকার যা কোনো কোনো প্রসাধনী লাগাতার ব্যবহারের কারণে হতে পারে।
৪. মুখ বারবার সাবান দিয়ে ধুলেও (দৈনিক ১ থেকে ২ বারের বেশি) ব্রণের পরিমাণ বেড়ে যায়। একে একনি ডিটারজিনেকস বলে।
৫. স্টেরয়েড একনি যা স্টেরয়েড ওষুধ সেবন বা ব্যবহারে দেখা দেয়।
》ব্রণ হলে কী করবেন:
• দিনে দু-তিনবার হালকা সাবান বা ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ ধুতে হবে। বাইরে থেকে এসেই মুখ ধুয়ে ফেলুন। এ ছাড়া হালকা গরম পানির স্টিম নিতে পারেন।
• তেল ছাড়া ওয়াটার বেসড মেকআপ ব্যবহার করুন।
• মাথা খুশকিমুক্ত রাখার চেষ্টা করুন।
• পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকুন এবং আলাদা তোয়ালে ব্যবহার করুন।
• রাতে পর্যাপ্ত ঘুম দরকার। মানসিক চাপমুক্ত থাকতে হবে। প্রচুর পরিমাণে ফল, সবজি খান ও পানি পান করুন।
• কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে হবে। প্রোটিন ও ভিটামিন সমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে।
》ব্রণ হলে যা করবেন না:
• রোদ এড়িয়ে চলুন।
• তেলযুক্ত ক্রিম বা ফাউন্ডেশন ব্যবহার করবেন না।
• ব্রণে হাত লাগাবেন না, খুঁটবেন না।
• চুলে এমনভাবে তেল দেবেন না, যাতে মুখটাও তেলতেলে হয়ে যায়।
• তেলযুক্ত বা ফাস্টফুড খাবার ও উচ্চ শর্করাযুক্ত খাবার পরিহার করুন।


0 Comments